প্রভাত বাংলা

site logo
Breaking News
||মেঘ বিস্ফোরণ ইটানগরে ধ্বংসযজ্ঞ, সর্বত্র দৃশ্যমান ভয়াবহ দৃশ্য; অনেক এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন||ছত্তিশগড়ের সুকমায় আইইডি বিস্ফোরণে শহীদ ২ সেনা||Daily Horoscope: মিথুন সহ এই ৫টি রাশির জাতক জাতিকারা কাঙ্খিত অগ্রগতি পাবেন, কোন রাশির জাতকরা মন খারাপ করবেন?||NEET Scam : NEET-UG পেপার ফাঁস মামলায় প্রথম FIR নথিভুক্ত করেছে CBI||মক্কায় হজযাত্রীর মৃত্যুতে হতবাক মিশর সরকার, এত কোম্পানির বিরুদ্ধে নিল ব্যবস্থা ||24 ঘন্টার মধ্যে ইয়েমেনের হুথিদের দ্বারা দ্বিতীয় ড্রোন হামলা, এখন লোহিত সাগরে জাহাজ লক্ষ্যবস্তু||বড় ধাক্কা পেলেন বজরং পুনিয়া, আবারও সাসপেন্ড করল নাডা||আবার আকাশ আনন্দকে তার উত্তরসূরি হিসেবে বেছে নিয়েছেন মায়াবতী||ইন্দোরে বিজেপি নেতাকে গুলি করে হত্যা||আহত ফিলিস্তিনিকে জিপের সামনে বেঁধে রেখেছে ইসরায়েলি সেনা

রাজ্য বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করলেন বিজিত অমৃতা রায় 

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
অমৃতা রায় 

ভোটে হেরে কৃষ্ণনগর রাজবাড়ীর বধূ অমৃতা রায় পদ্ম থেকে ‘প্রত্যাখ্যাত’! পরাজয়ের দায় দলীয় নেতৃত্বের একাংশের কাঁধে চাপিয়ে অন্যের কথা শোনার তাঁর বক্তব্য ছিল ‘ভুল’! তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে তিনি নির্বাচনে আরও ভালো পারফর্ম করতেন। অমৃতা যেভাবে দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন, প্রশ্ন উঠেছে এর পরেও তিনি রাজনীতিতে থাকবেন কি না? শুক্রবার সকালে আনন্দবাজার অনলাইনকে অমৃতার অকপট জবাব ছিল, “এর পর যদি রাজনীতি করি তাহলে আমার বিবেক অনুযায়ী কাজ করব!” অন্যের কথায় নয়!

কৃষ্ণনগরে তৃণমূলের মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে মাঠে নেমে অমৃতাকে ‘ধাক্কা’ দিয়েছে বিজেপি। প্রার্থী ঘোষণার পর রাজকন্যা অনেক জায়গায় গিয়ে প্রচারণা চালান। নরেন্দ্র মোদি তার কেন্দ্রে দুবার প্রচারও করেছেন। যেহেতু অমিত শাহও প্রচারে গিয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন মোদি। বিজেপিও ধুমধাম করে প্রচার করেছে। কিন্তু কৃষ্ণনগরের ফল পাল্টায়নি। প্রায় ৫৭ হাজার ভোটে মহুয়া থেকে হারতে হয় অমৃতাকে।

দলের পরাজয়ের পর অমৃতা আনন্দবাজার অনলাইনকে বলেন, এই পরাজয় আমি মেনে নিতে পারছি না যেটা বলেছি। আমি রাজনীতিতে নতুন। সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত প্রচারণা চালিয়েছি। সে যেখানে বললো সেখানে গেলাম। আমি অন্যদের প্রজ্ঞার দিকে ফিরে এসেছি। আমার সহজাত প্রবৃত্তি অনুসরণ করলে ভালো হতো।

আরও এক ধাপ এগিয়ে অমৃতার ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা অভিযোগ করেন যে রাজকন্যাকে তার প্রচারের দায়িত্বে থাকা নেতারা ‘ডুবিয়ে’ দিয়েছেন। তিনি ‘দুর্নীতি’ করেছেন। প্রচারের জন্য পাওয়া টাকাও তুলে নেওয়া হয়। শুক্রবার অমৃতার এক ছায়া সহযোগী বলেন, রানিমার কথা কেউ শোনেনি। চোখের সামনে দুর্নীতি দেখল রানীমা! তিনি এই কথা বলছেন। কিন্তু তার বক্তব্যে কর্ণপাত করা হয়নি। উল্টো, এখানকার (নদিয়া ও কৃষ্ণনগর) নেতৃত্বকে তারা যা বলেছে তাই করতে হয়েছে। রানীমা যদি তার বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করত তাহলে সে হারতে পারত না।

কৃষ্ণনগর থেকে প্রার্থী বাছাই নিয়ে বিজেপির মধ্যে তুমুল তোলপাড় চলছে। কৃষ্ণনগরের প্রাক্তন সাংসদ প্রয়াত সত্যব্রত মুখোপাধ্যায় ওরফে জলুবাবুর ছেলে সৌমেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় তাকে প্রার্থী করার জন্য সমন্বিত চেষ্টা করেছিলেন। শারীরিক কারণে নির্বাচনে দাঁড়ানোর চাপ মানতে রাজি হননি তিনি। এর পরে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের জন্য ঝুলন গোস্বামী, সোমা বিশ্বাসের মতো জাতীয় স্তরের খেলোয়াড়দের নামও পর্যালোচনা করা হয়েছিল। বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগদানের পর অবশেষে অমৃতাকে বিজেপি এই আসনের জন্য মনোনীত করেছিল। যুক্তি ছিল রাজকন্যাকে আর ভোটারদের সামনে হাজির করতে হবে না। সবাই তাকে চেনে। অমৃতার ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি দাবি করেছেন যে বিজেপি রাজকন্যার ছবি এবং কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির নাম ‘ব্যবহার’ করেছে। রাজপরিবারও প্রতারিত হয়েছে। ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির কথায়, “রানিমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বিজেপি!” রাজবাড়ির নামে রানিমার ছবি তুলে দেওয়া হয়েছে! রানীমাও গিয়েছিলেন। কিন্তু এখানে শুধু বিজেপি নেতারাই দুর্নীতি করেছে। মোদিজি-শাহজির বৈঠক চুরি হয়ে গেল। বারবার হিসাব চাওয়া হয়েছে। কিন্তু কেউ কোনো হিসাব দেননি। চেক বইতে স্বাক্ষর করে নিয়ে গেছে। রানীমার একটা পশুও ছিল না।

অমৃতার অন্দর মহল আরও দাবি করেছে যে অর্থ স্থানান্তরের তথ্য বিজেপি নেতা অমিত মালব্য এবং রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। রাজকন্যার এক ছায়া সহকারী বলেন, যারা টাকা উত্তোলন করেছে তাদের নামের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। বিষয়টি নেতৃত্বকে জানানো হবে।

নির্বাচনী প্রচারের সময়, বিজেপি নেতারা অমৃতাকে ‘রাজমাতা’ এবং ‘রানিমা’ হিসাবে উপস্থাপন করেছিলেন, যা একটি উত্তপ্ত বিতর্কের জন্ম দেয়। মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ‘রাজমাতা’ শব্দ নিয়ে কটাক্ষ করেছেন। ‘রাজা কোথায়?’ প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি তিনি মনে করিয়ে দেন, এদেশে ‘রাজা’ নেই, সবাই ‘প্রজা’! এর পাশাপাশি, পলাশীর যুদ্ধে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের ভূমিকা নিয়ে কৃষ্ণনগরে অনেক বিতর্ক হয়েছিল, অর্থাৎ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং ব্রিটিশদের সমর্থন করার বিষয়ে অমৃতা নিজেই কী বলেছিলেন। নির্বাচনে পরাজয়ের পর রাজপরিবারের একাংশের দাবি, ভোট-রাজনীতিতে না গেলে এই পরিস্থিতি তৈরি হত না। পুজো ছাড়াও রাজবাড়ির জগৎ এতদিন কৃষ্ণনগরের মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল। বিজয়াদশমীর সিঁদুরখেলায় অমৃতাকে খুব কাছ থেকে দেখা গিয়েছিল। রাজপরিবারের মর্যাদা অক্ষুণ্ন ছিল কারণ তা জনগণের নাগালের বাইরে ছিল। তবে নির্বাচনের সময় রাজপরিবারের ইতিহাস এবং ‘রানিমা’ নাম নিয়ে বিতর্কের কারণে রাজপরিবারের নাম কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করেন অমৃতার ঘনিষ্ঠজনরা। তার ছায়াসঙ্গীর কথায়, “এসব কারণেই রাজনীতি থেকে দূরে সরে যেতে শুরু করেছেন রানীমার!” এবার কলকাতায় যাব। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে সবার সঙ্গে কথা বলব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর

ট্রেন্ডিং খবর