প্রভাত বাংলা

site logo
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণ কি পাল্টে যাচ্ছে? শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে গিয়েছিলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক অশোক লাহিড়ী, অগ্নিমিত্র পাল এবং মনোজ টিগ্গা। বিধানসভায় প্রথমবার মমতার বাড়িতে গেলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু। পরে বিধানসভায় তাঁর বক্তৃতায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে তাঁর ভাই বলেও উল্লেখ করেন। খুব সংক্ষিপ্ত মিটিং কিন্তু রাজ্য রাজনীতিতে এটা সত্যিই বিস্ময়কর। সাম্প্রতিক সময়ে শুক্রবার বিকেলের বিধানসভার ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী ও বিরোধী দলের নেতার মধ্যে সম্পর্ক লক্ষণীয়।

নতুন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বসুর শপথগ্রহণ নিয়ে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন আলোড়ন তৈরি হয়েছে। শুভেন্দু শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে না এসে দোষ চাপিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীর ওপর। এর মাত্র দুদিন পর উভয় লোক সমাবেশে মিলিত হয়। তবে অল্প সময়ের জন্য। শুভেন্দু চার মিনিট মমতার ঘরে থাকল। পরে মমতা বলেন, “আমি শুভেন্দুকে চায়ের জন্য ডেকেছিলাম।” এবং শুভেন্দু বলেন, “এটি একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল।” তবে, তিনি চা পান করেননি। চা পান করতে বলেন। কিন্তু বিধানসভা অধিবেশন চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যস্ত থাকায় তিনি চা পাননি।

সৌজন্য সাক্ষাতের পর বিধানসভায় মমতার বক্তব্যও ছিল বিস্ময়কর। অধিবেশনে মমতা শুভেন্দুকে ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করেন। তার আগে সংবিধান দিবসে ভাষণ দেন শুভেন্দু। সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মমতা বলেন, “আমি তাকে ভাইয়ের মতো ভালোবাসতাম, তিনি গণতন্ত্রের কথা বলতেন।” তার কথায়, “যখন দল গঠিত হয়েছিল, তখন আপনি সেখানে ছিলেন না। শিশিরদা আমাদের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছিলেন। আমি তাকে সম্মান করি।” শিশির 1998 সালের লোকসভা নির্বাচনেও কাঁথিতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

গত বছরের 19 ডিসেম্বর শুভেন্দু তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। দলের নেতার সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়েছিল অনেক আগেই। এরপর নন্দীগ্রাম বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন মমতা ও শুভেন্দু। শুভেন্দু জিতেছে। মমতা পরে ভবানীপুরের উপনির্বাচনে জয়ী হন। এর পরেও সুবেন্দু মমতাকে ‘কম্পার্টমেন্টাল সিএম’ বলে কটূক্তি করতে থাকেন। তৃণমূলকে ‘পিসি-ভিপ্পো লিমিটেড কোম্পানি’ বলে আক্রমণ শুরু করেন তিনি। অন্যদিকে মমতাও বললেন ভিন্ন কথা। কিন্তু শুভেন্দুর নাম কখনো সেভাবে নেননি। কিন্তু লড়াই চলতে থাকে। এদিকে, সমাবেশ আজ সত্যিই বিস্মিত.

তবে এর আগেও সৌজন্য বিনিময় হয়েছে। বিধানসভার শেষ অধিবেশনে দুজনে করমর্দন ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। কিন্তু বাড়িতে চা খাওয়ার আমন্ত্রণের মতো চমক আগে কখনো দেখা যায়নি। মাত্র দুদিন আগে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে বিরোধী দলের নেতাকে অপমান করার অভিযোগ ওঠে। রাজ্যপালের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে তৃণমূল সাংসদের পিছনে তাদের দ্বিতীয় সারির আসন দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করে তারা অনুষ্ঠান বয়কট করে। বিজেপিও বয়কট করেছে।এ নিয়ে চলছে জোর বিতর্ক। বিভিন্ন মহল বলছে, পূর্ণ প্রতিমন্ত্রীর সমান মর্যাদার অধিকারী বিরোধীদলীয় নেতাকে এভাবে অপমান করা হয়েছে। সেই বিতর্ক শেষ হওয়ার আগেই সমাবেশে এক অপরিচিত ছবি দেখা গেল। তবে ক্ষণস্থায়ী বৈঠক হলেও ওই বৈঠকে আসলে কী বলা হয়েছিল তা এখনও জানা যায়নি।

READ MORE : শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর নির্দেশে তৈরি হয় অতিরিক্ত শূন্য পদ, বিচারপতি এজলাসে দাবি শিক্ষাসচিবের

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *