প্রভাত বাংলা

site logo
সৌগত

‘এর আগে এমন দুর্নীতি হয়নি’, পার্থ কেলেঙ্কারি নিয়ে তৃণমূলের অস্বস্তি বাড়ালেন সৌগত

এর আগেও এমন মন্তব্য করে তৃণমূলের বিড়ম্বনা বাড়িয়েছেন সৌগত। এবারও তাই হয়েছে। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, “সারা ভারতে এই ধরনের দুর্নীতি কমেছে। বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লালুপ্রসাদ দীর্ঘদিন জেলে ছিলেন। কিন্তু লালুর কাছ থেকে এত নোট নেই। এর আগে সুখরাম কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ছিলেন। দুই-তিনজন। তার কাছ থেকে চার কোটি টাকা উদ্ধার করা হয়েছে, এটা কোথাও দেখা যায়নি।

তবে সৌগতের মন্তব্য নিয়ে দলটির কোনো নেতাই প্রকাশ্যে কিছু বলতে চান না। রাজ্য স্তরের এক নেতা বলেছেন, “আমি বুঝতে পারছি তিনি অস্বস্তিকর। তবে এটাও ঠিক যে এটা প্রকাশ্যে বলে দলের অস্বস্তি বাড়ছে। তবে তিনি দলের সিনিয়র নেতা। তাই এ বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই মন্তব্য শুনে দলের অন্দরে কিছু বলেছেন কি না জানা নেই। শুক্রবার আনন্দবাজার অনলাইনের তরফে সৌগতকে তাঁর মন্তব্যের বিষয়ে ফোন করা হলে তিনি ওই বক্তব্যে অনড় বলে জানান।

শুধু লালু, সুখরামের সঙ্গে তুলনাই নয়, উদ্ধার হওয়া টাকা নিয়েও মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “৫০ কোটি টাকা! টাকার ছবি না দেখলে বিশ্বাসই করতাম না। ছবি দেখেছি। টাকার পাহাড় যে দেখা গেছে, তা দেখে আমরা জনগণকে কী জবাব দেব? এই বিড়ম্বনা! , এই লজ্জা আমাদের৷” সৌগত বলেন, “আমরা তৃণমূলের মানুষ, আমরা তৃণমূলের সঙ্গেই থাকব, এবং তৃণমূলের সবাই চোর বলে আখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করলে আমরা প্রতিরোধ করব৷”

প্রসঙ্গত, ২২ শে জুলাই রাতে, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) পার্থের ‘ঘনিষ্ঠ’ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের দক্ষিণ কলকাতার ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে বিপুল নগদ উদ্ধার করে। এরপর বেলঘরিয়ায় অর্পিতার আরেকটি ফ্ল্যাট থেকেও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে উদ্ধারকৃত অর্থের পরিমাণ ৫০ কোটি টাকার বেশি। এ ছাড়া উদ্ধার করা হয়েছে ৫ কোটি টাকার বেশি মূল্যের স্বর্ণ ও বৈদেশিক মুদ্রা। ED-এর দাবি অনুযায়ী, কোটি টাকার স্থাবর সম্পত্তি এবং অনেক জাল কোম্পানির সন্ধান পাওয়া গেছে।

Read More : সুপ্রিম কোর্টে মানিক, শিক্ষক নিয়োগ মামলায় দায়ের করলেন লিভ পিটিশন

সুখরাম শর্মা, যাকে এদিন সৌগত উল্লেখ করেছিলেন, তিনি ছিলেন কেন্দ্রীয় টেলিকম মন্ত্রী। ১৯৯৬ সালে, তিনি টেলিকম সেক্টরে দুর্নীতি এবং অসম সম্পদের একাধিক মামলায় অভিযুক্ত হন। তার বাড়ি থেকে কয়েক কোটি টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগে তাঁকে কংগ্রেস দল থেকেও বহিষ্কার করা হয়। অন্যদিকে, পশুখাদ্য কেলেঙ্কারিতে দোষী সাব্যস্ত হলেন রাষ্ট্রীয় জনতা দলের প্রধান ও বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লালু প্রসাদ।

Leave a Comment

Your email address will not be published.