প্রভাত বাংলা

site logo
সেকেন্ডে

প্রতি 4 সেকেন্ডে একজনের মৃত্যু, ক্ষুধার সূচকের কারণে ভয় বাড়ছে বিশ্বে

একদিকে করোনা মহামারী। অন্যদিকে ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার যুদ্ধ চলছে। অনেক দেশও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই আবহাওয়ায় সারা বিশ্বে খাদ্য সংকট বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে প্রাণহানির ঘটনাও। আন্তর্জাতিক নিরীক্ষা সংস্থাগুলির মতে, প্রতি চার সেকেন্ডে একজন মানুষ অনাহারে মারা যায়। এ অবস্থা উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেছেন ওই কোম্পানিগুলো। ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব গড়তে জাতিসংঘের কাছেও আবেদন জানানো হয়েছে। গত মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদেও এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক এই সংস্থার পক্ষ থেকে ক্ষুধা রোধে সকল দেশকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলছে। মঙ্গলবার বৈঠকে ৭৫টি দেশের মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা ২৩৮টি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বিশ্ব নেতাদের কাছে একটি খোলা চিঠি দিয়েছে। তালিকায় অক্সফাম, সেভ দ্য চিলড্রেন এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের মতো প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। খোলা চিঠিতে বলা হয়েছে, বিশ্বে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। সংস্থাগুলি দাবি করেছে যে বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৩৪৫ মিলিয়ন মানুষ ক্ষুধার সঙ্গে লড়াই করছে। উদ্বেগের বিষয়, ২০১৯ সাল থেকে এই সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। অন্যদিকে, প্রায় ২০,০০০ মানুষ অনাহারে মারা যাচ্ছে। তাদের বেশিরভাগই আফ্রিকা, এশিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার বাসিন্দা বলে দাবি করেছে কোম্পানিগুলো। তুলনামূলকভাবে আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলোর অবস্থা ভালো বলে জানিয়েছে নিরীক্ষা সংস্থাগুলো।

জাতিসংঘের বৈঠক চলাকালীন প্রকাশিত খোলা চিঠিতে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি যেভাবে চলছে তাতে একবিংশ শতাব্দীতে বিশ্বজুড়ে দুর্ভিক্ষ হতে পারে। বর্তমানে কৃষি ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা হয়েছে। ফসল উৎপাদন ও ফসল তোলায় উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। তার পরেও যদি দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়, তা হবে দুর্ভাগ্য, দাবি করা হয়েছে ওই সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে।

Read More : রাশিয়া: ভ্লাদিমির পুতিনের ঘোষণায় হতবাক মানুষ! দেশ ছাড়তে বাধ্য, সব ফ্লাইট বুক

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউরোপের অনেক দেশ বিশ্বের খাদ্য সংকট নিয়ে উদ্বিগ্ন। ইউক্রেনের দক্ষিণে কৃষ্ণ সাগর রাশিয়ান নৌবাহিনী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মস্কো কোনো পণ্যবাহী জাহাজকে এই পথ দিয়ে যাতায়াতের অনুমতি দেয়নি। ফলে ইউরোপের ‘গমের গুদাম’ হিসেবে পরিচিত ইউক্রেন থেকে খাদ্যশস্য আমদানি-রপ্তানি প্রায় বন্ধ। এতে খাদ্য সংকট তৈরি হচ্ছে বলে অনেক বিশেষজ্ঞের দাবি।

Leave a Comment

Your email address will not be published.