প্রভাত বাংলা

site logo
বিজেপি

এবার বিজেপির ‘চমক’ সুকান্তের ছাত্রী, উত্তরবঙ্গের দলের দুর্গাপূজা করবেন সুলতা

বিজেপির উদ্যোগে দেশের রাষ্ট্রপতি হলেন দ্রৌপদী মুর্মু। আর রাজ্য বিজেপির উদ্যোগে কলকাতায় দলীয় পুজোর পুরোহিত সুলতা মণ্ডল! বৃহস্পতিবার আনন্দবাজার অনলাইনকে সুলতা বলেন, এই সুযোগ পেয়ে তিনি খুবই উচ্ছ্বসিত। আগামী সোমবার নবরাত্রির প্রথম দিনে কলকাতায় আসবেন তিনি। পুজোর আয়োজন নিয়ে রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলবে বিজেপি। ফিরে যান এবং চতুর্থ বা পঞ্চম দিনে আবার আসেন। সুলতা বলেন, “আমি ইতিমধ্যেই স্যারকে (বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার) জানিয়েছি যে আমি সব শাস্ত্রীয় রীতি অনুযায়ী পূজা করতে চাই। সেজন্য যারা আয়োজনের বিস্তারিত দেখবেন তাদের সঙ্গে কথা বলতে যাচ্ছি।”

বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত গাউডেং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন। তিনি উদ্ভিদবিদ্যার শিক্ষক হলেও বেঙ্গল বিভাগের ছাত্রী সুলতা তাকে ‘সুকান্তস্যার’ নামেই চেনেন। সেই সুলতা এবার দায়িত্ব পেলেন। এক বছর আগে রাজ্য বিজেপির সভাপতি হলেও সুকান্ত তখনও সেভাবে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। কিন্তু এ বার রাজ্য সভাপতি আগেই ঠিক করেছিলেন দলের হয়ে উমার পুজোয় অংশ নেবেন একজন মহিলা পুরোহিত। দলের পক্ষ থেকে ঠিক করা হয়েছে, সুকান্তের ছাত্র সুলতাই পুরোহিত হবেন।

সুকান্তর জেলার দক্ষিণ দিনাজপুরের মেয়ে সুলতা। গঙ্গারামপুর থানার বাতাসাকুড়ি গ্রাম। বয়স আঠারোর কাছাকাছি। মন্ডলবাড়ির একমাত্র মেয়ে। যদিও বাবা বা দুই দাদা কখনও পূজা করেননি, সুলতা ছোটবেলা থেকেই এতে আগ্রহী ছিল। বাংলার পাশাপাশি তিনি শিক্ষা বিষয়ে স্নাতকোত্তর অধ্যয়ন সম্পন্ন করেন এবং বিএড এবং এমএড পাস করেন। পেশা হিসেবে শিক্ষকতাই ছিল লক্ষ্য। আর ‘আসক্ত’ না হলেও ‘লাইক’ পূজা করা। এখন তিনি জেলার কুশমুন্ডি উচ্চ বিদ্যালয়ের অতিথি শিক্ষক। বৃহস্পতিবার ক্লাস চলাকালীন আনন্দবাজার অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, “ছোটবেলা থেকেই বাড়িতে ঠাকুমা আর মাকে পুজো করতে দেখেছি। বাড়ির নিত্য পুজো মায়েরাই করতেন। এরপর আমি বাবা, দাদা নয়। সেই থেকে মনে হয়, যদি দায়িত্বটা পড়ে। বাড়ির পুজো মহিলাদের হাতে, বারোয়ারি পুজোয় কেন শুধু পুরুষের অধিকার থাকবে? ধীরে ধীরে নিজেকে গড়ে তুলছি। ধর্মগ্রন্থ পড়ে পুজোর নিয়ম জানুন। অন্য পুরোহিতদের কাছ থেকেও আচার শিখুন। পাশাপাশি সংস্কৃত মন্ত্র অধ্যয়ন করুন। , আমিও জপ করার অভ্যাস শুরু করেছিলাম। তারপর একদিন সাহস করে বারোয়ারি পূজা করতে শুরু করি।

Read More : টাকা দিয়ে চাকরি! সিবিআই অভিযোগের পর জেল হেফাজতে শান্তিপ্রসাদ

প্রথম দিকে ‘মণ্ডল’ বাড়ির ‘ব্রাহ্মণ মেয়ে’কে পুরোহিত হিসেবে অনেকেই মেনে নিতে পারেননি। সুযোগ এসেছিল 2018 সালে। সুলতা মালদহ কলেজের সরস্বতী পুজোর পুরোহিত হয়েছিলেন। দুর্গাপূজা, কালীপূজা আগেই হয়ে গেছে। এছাড়াও কলকাতার রায়গঞ্জ এবং যাদবপুরে বিয়েতে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু এই প্রথম সুলতা এমন একটি পুজোর দায়িত্বে যা গোটা রাজ্যের নজরে।

Leave a Comment

Your email address will not be published.