প্রভাত বাংলা

site logo
যম

নরকের ১৫টি নগরে কষ্ট ভোগ করে যমপুরী পৌঁছয় আত্মা, চমকে দেবে গরুড় পুরাণের বর্ণনা!

মৃত্যুর পর জীবাত্মা যমমার্গে বিভিন্ন যাতনা সহ্য করতে করতে এগিয়ে যায়। এই পথে নানান ভয়াবহ দৃশ্য তাঁদের মন বিচলিত করে তোলে। পাপকর্ম করেছেন যে জীবাত্মা তাঁদের ওপর চলতে থাকে অত্যাচার। ১৭ দিন পর্যন্ত বিলাপ করতে করতে, নিজের জীবদ্দশায় যে পাপ কাজ করেছেন এবং কোন কোন পুণ্য কাজ করেননি তা মনে করে কাঁদতে কাঁদতে বিভিন্ন নগরের উদ্দেশে এগিয়ে যান। এই প্রেতাত্মার গন্তব্য যমপুরী। কিন্তু যমপুরীতে পৌঁছনোর আগে ১৫টি নগর পার করতে হয়, যাতে সময় লাগে ১ বছর। এই সমস্ত নগরে পৌঁছে তাঁরা পিণ্ড গ্রহণ করেন, বিশ্রাম করেন আবার এরই মাঝে চলতে থাকে যমদূতদের অত্যাচার। গরুড় পুরাণের দ্বিতীয় অধ্যায়ে এই ১৫টি নগরের বর্ণনা পাওয়া যায়।

১. গরুড় পুরাণ অনুযায়ী মৃত্যুর পর আঠেরো দিনে সেই জীবাত্মা প্রেত সৌম্যপুরে যায়। এখানে প্রেতদের মহান গণ থাকেন। সেখানে পুষ্পভদ্রা নদী ও সুন্দর বটবৃক্ষ রয়েছে। এখানে জীবাত্মাদের বিশ্রাম করতে দেওয়া হয়। সেখানে তাঁরা স্ত্রী-পুত্র দ্বারা প্রাপ্ত সুখের স্মরণ করেন। এখানে তাঁরা পুত্র-পৌত্রদের দেওয়া মাসিক পিণ্ড গ্রহণ করে।

২. তার পর জীবাত্মা সৌরপুরীর দিকে যাত্রা করে। এখান কালের রূপ ধারণকারী জঙ্গম নামক রাজার বাস। সেই রাজাকতে দেখে জীবাত্মা ভয়ভীত হয়ে বিশ্রাম করতে চায়। সৌরপুরীতে আত্মীয়দের দেওয়া ত্রৈপাক্ষিক পিণ্ড খেয়ে সেখান থেকে প্রস্থান করে জীবাত্মা।

৩. তার পর তাঁরা দ্রুততার সঙ্গে নগেন্দ্র ভবনের দিকে প্রস্থান করেন। সেখানে ভয়ঙ্কর বন দেখে তাঁরা দুঃখিত হয়ে যায় এবং কাঁদতে থাকে। দুমাস পর এই ভবনে যান জীবাত্মারা। সেখানে বন্ধুবান্ধবদের দ্বারা দেওয়া পিণ্ড, জল, বস্ত্র উপভোগ করে পুনরায় অগ্রসর হয়।

৪. তৃতীয় মাসে প্রেত বা জীবাত্মা গন্ধর্বনগর পৌঁছয়। সেখানে ত্রৈমাসিক পিণ্ড খেয়ে অগ্রসর হয়।

৫. চতুর্থ মাসে সেই জীবাত্মা পৌঁছয় শৈলাগমপুরে। সেখানে জীবাত্মা বা প্রেতের ওপর ইঁট বৃষ্টি করা হয়। চতুর্থ মাসের পিণ্ড ভক্ষণ করার পর সন্তুষ্ট হয় সেই প্রেত।

৬. পঞ্চম মাসে ক্রৌঞ্চপুর পৌঁছন তাঁরা। এখানে হাতে করে দিয়ে থাকা পঞ্চম মাসিক পিণ্ড গ্রহণ করে ক্রুরপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে।

৭. সাড়ে পাঁচমাস পর উনষাণ্মাসিক পিণ্ড ও ঘট দানে তৃপ্ত হয়ে ক্রুরপুরীতে অর্ধেক মুহূর্ত বিশ্রাম করে যমদূতদের ভয়ে থরথর কাঁপতে কাঁপতে যাত্রা শুরু করে।

৮. এবার চিত্রভবন পুরে পৌঁছন সেই জীবাত্মা। এখানে যমের ছোট ভাই রাজা বিচিত্রের রাজত্ব চলে। বিশালাকৃতি রাজাকে দেখে জীবাত্মা ভয় পেয়ে পালাতে শুরু করে। তখন কৈবর্ত তাঁকে বলে যে তাঁর সামনে যে মহাবৈতরণী নদী রয়েছে, তা পার করার জন্য একটি নৌকোর প্রয়োজন। কিন্তু নিজের জীবদ্দশায় তাঁরা কোনও দান-পুণ্য করে থাকলে তখনই সেই বৈতরণী কাছে আসে। না-হলে প্রেতকে বৈতরণী নদীতে ফেলে দেওয়া হয় ও তার মুখে বরশি গেঁথে জলের মধ্য দিয়ে টানটে টানতে নিয়ে যাওয়া হয়। এখানে ষাণ্মাসিক পিণ্ড খেয়ে ক্ষুধার্ত অবস্থায় বিলাপ করতে করতে এগিয়ে চলে।

৯. সপ্তম মাসে প্রেতাত্মা ব্রহ্মপদপুরের উদ্দেশে রওনা হয়। এখানে সপ্তম মাসিক পিণ্ড খেয়ে দুঃখদ পুর নামক পুরের উদ্দেশে যাত্রা করেন। আকাশপথে যাওয়ার সময় দুঃখ পায় সেই জাতক।

১০. ব্রহ্মপদপুরে অষ্টম মাসের পিণ্ড ভক্ষণ করার পর নবম মাস পূর্ণ হলে নানক্রন্দপুর লাভ করে। নানক্রন্দপুরে বহু সংখ্যক ক্রন্দগণদের দেখে সেই প্রেত কাঁদতে শুরু করে।

১১. দশম মাসে সেই প্রেত সুতপ্তভবন নামক নগরে পৌঁছয় সেই প্রেত। সেখানে পুত্রদের দ্বারা দেওয়া পিণ্ড ও জল পেয়েও তাঁরা শান্ত হয় না।

১২. একাদশ মাস পুরো হওয়ার পর সেই প্রেত রৌদ্রপুর যায়। সেখানে পুত্রের দেওয়া একাদশ মাসিক পিণ্ড ভক্ষণ করে।

১৩. গরুড় পুরাণ অনুযায়ী, সাড়ে এগারো মাস কেটে যাওয়ার পর পর্যোবর্ষণ নগরে পৌঁছয়। সেখানে তাঁদের দুঃখ প্রদানকারী বৃষ্টি হয়। সেখানে প্রেতাত্মা ঊনাব্দিকশ্রাদ্ধের পিণ্ড খায়।

১৪. বছর পুরো হওয়ার পর শীতাঢ্য নামক নগরে পৌঁছয়ে। সেখানে প্রচণ্ড ঠান্ডা পরে। শীতের কারণে দুঃখিত, ক্ষুধিত সেই প্রেতাত্মা প্রত্যাশা ভরা চোখে দশ দিক দেখে এবং এমন কাউকে খোঁজে যে তাঁর দুঃখ দূর করতে পারে। কিন্তু পুণ্যের অভাবে কাউকে খুঁজে পায় না। তার পর বার্ষিক পিণ্ড খেয়ে ধৈর্য ধরে।

Read More : কোষ্ঠীতে এই যোগ ছারখার করে দেয় দাম্পত্য! জানুন বিষকন্যা যোগ সম্পর্কে

১৫. বছরের শেষে যমপুরের কাছে পৌঁছে সেই প্রেতাত্মা বহুভীতিপুরে গিয়ে এক হাত মাপের নিজের শরীর ছেড়ে দেয়।

১৬. এর পর পুনরায় নিজের কর্ম ভোগ করার জন্য বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠের মাপের দেহ ধারণ করে যমদূতদের সঙ্গে যাত্রা করে। যে ব্যক্তি মরণকালীন দান করেননি, তাঁদের যমদূতেরা দৃঢ় বন্ধনে বেঁধে কষ্ট দিতে দিতে যমপুরের উদ্দেশে নিয়ে যায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published.