প্রভাত বাংলা

site logo
RUssia

রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধ কতদিন চলতে পারে, তাতে ভারতের অবস্থান কী হবে?

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি রুশ হামলা এড়াতে তার 10,000 বেসামরিক নাগরিককে অ্যাসল্ট রাইফেল দিয়েছেন। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র বলে আসছে আগামী কয়েকদিন, সপ্তাহ বা মাস ইউক্রেনের জনগণের জন্য কঠিন হতে চলেছে।

এমতাবস্থায় ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে এই যুদ্ধ কতদিন চলবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রাক্তন পররাষ্ট্র সচিব শশাঙ্ক, প্রাক্তন কূটনীতিক ভাস্বতী ঘোষ, প্রাক্তন ডিরেক্টর অফ মিলিটারি অপারেশনস লে. মানুষ বিনোদ ভাটিয়ার কাছ থেকে জেনে নিন কতদিন যুদ্ধের শিখায় পুড়তে হবে পূর্ব ইউরোপকে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ কতদিন চলবে?
আমেরিকা যাই বলুক, কিন্তু ইউরোপের কোনো দেশ রাশিয়ার সঙ্গে টক্কর দেওয়ার মতো অবস্থায় নেই। এমতাবস্থায় লড়াই বেশিদিন চলতে পারে না। এই দেশগুলো রাশিয়াকে উস্কে দিতে চাইবে না এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার কোনো ‘উপযুক্ত জবাব’ নেই।

এটা কি বিশ্বযুদ্ধে পরিণত হতে পারে?
আমেরিকা বা ন্যাটো খোলাখুলিভাবে জড়িত না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ বিশ্বযুদ্ধে রূপ নেবে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ন্যাটো উভয়ই বলেছে যে তারা ইউক্রেনে সেনা পাঠাবে না।


এই যুদ্ধ কি নিজেকে পরাশক্তি হিসেবে প্রমাণ করার জন্য?

আমেরিকা ও তার মিত্ররা একবিংশ শতাব্দীর সকল যুদ্ধ একসাথে লড়েছে। যে দেশগুলি যুদ্ধ চালায় এবং অন্যান্য দেশের উপর সামরিক ইচ্ছা চাপিয়ে দেয় সেগুলিকে বড় শক্তি হিসাবে বিবেচনা করা হত। এমন পরিস্থিতিতে এই হামলার মাধ্যমে রাশিয়া নিজেকে সত্যিকারের পরাশক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করার চেষ্টা করেছে। রাশিয়ার সামরিক শক্তি এবং চীনের অর্থনৈতিক শক্তির জোট তাদের ভাগাভাগি পরাশক্তির মর্যাদা দিচ্ছে। সম্ভবত সে কারণেই বৃহস্পতিবার তাইওয়ান সীমান্তে 12টি চীনা বিমান প্রবেশ করেছে, কারণ আমেরিকাও তাইওয়ানের পিছনে দাঁড়িয়ে আছে।

আমেরিকা ও রাশিয়ার মধ্যে কাকে বেছে নেবে ভারত?
ভারতের ওপর ব্যাপক কূটনৈতিক চাপ রয়েছে। এর অবৈধ সুবিধা পাবে চীন ও পাকিস্তান। ইউক্রেনের ওপর সামরিক পদক্ষেপের প্রেক্ষাপটে রাশিয়া আরও সমর্থন পেতে আগ্রহী। এভাবে রাশিয়াকে এখন চীনের আদালতে শক্তভাবে দাঁড়াতে দেখা যাবে। এ অবস্থা ভারতের জন্য ভালো নয়।

Read More :

এই যুদ্ধের খরচ কত?
তেলের দাম আকাশচুম্বী হবে। এতে অনেক শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব শুধু রাশিয়া নয়, আমেরিকা ও ইউরোপেও পড়বে। রাশিয়ার গ্যাস ও তেলের পাইপলাইন ইউক্রেন থেকে জার্মানি এবং অন্যান্য ইউরোপীয় দেশে চলে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এ ব্যবসা সংকটে পড়েছে। এর প্রভাবে মরিচাও বাড়বে। জার্মানি নর্ড স্ট্রিমের অনুমোদন বন্ধ করে দিয়েছে। প্রায় 1200 কিলোমিটারের এই পাইপলাইনটি বাল্টিক সাগর দিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। এ থেকে জার্মানিতে রাশিয়ান গ্যাস সরবরাহের প্রস্তাব ছিল। রাশিয়া স্পষ্টভাবে বলেছে যে তারা ইউক্রেন থেকে নাৎসিবাদ দূর করতে সামরিক পদক্ষেপ নিচ্ছে। এটা স্পষ্ট যে জার্মানিও লক্ষ্যবস্তু। পাইপলাইনটি $5 বিলিয়ন খরচ করেছিল এবং প্রায় প্রস্তুত ছিল। এটি ছিল ইউরোপীয় ইউনিয়নে গ্যাস সরবরাহ করার জন্য। এটি মরিচা দামের মধ্যেও অন্তর্ভুক্ত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *